অন্তত ২ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে গাজায়, নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০৮৭

     অক্টো 24, 2023 / GMT+6

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর গত ১৭ দিনের যুদ্ধে গাজায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২ হাজার শিশুর। আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা সেভ দ্য চিল্ডরেন সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ৩২০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা। ধ্বংস হয়েছে মসজিদসহ বহু স্থাপনা।

এদিন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকাটিতে বোমায় ৪৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত ১৭ দিনে গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৭–তে। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫ জন বা ৪০ শতাংশই শিশু। আর ১ হাজার ১১৯ জন নারী।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ৩২০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে ইসরায়েল। এতে ধ্বংস হয়েছে একটি মসজিদসহ বহু স্থাপনা। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে। সেখানে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। ফলে অন্যান্য দিনের মতো গতকালও গাজার হাসপাতালগুলোতে ছিল আহত ফিলিস্তিনিদের ঢল আর লাশের সারি।


সোমবার এক বিবৃতিতে সেভ দ্য চিল্ডরেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইসরায়েলের বিমান অভিযানের জেরে গাজা নির্বিচারে হতাহত হচ্ছে শিশুরা। এ পর্যন্ত সেখানে অন্তত ২ হাজার শিশু নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরও কয়েক হাজার।’

‘আমরা এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে গাজায় শিগগিরই যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানাচ্ছি এবং প্রত্যাশা করছি, শিশুদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ব্যাপারে আরও তৎপর হবে।’

সেভ দ্য চিল্ডরেনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত চলমান এই যুদ্ধে আক্ষরিক অর্থেই ‘ফাঁদে পড়েছে’ গাজা উপত্যকার ১০ লাখেরও বেশি শিশু। কারণ উপত্যকায় এমন কোনো স্থান নেই— যেখানে তারা নিরাপদ বোধ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা উপকরণ ও বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছে আন্তর্জাতিক এই এনজিও।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৫ হাজার ৮৭ জন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা ২ হাজার ৫৫ জন এবং নারী রয়েছেন ১ হাজার ১১৯ জন।

বিমান বাহিনীর হামলা ও জ্বালানি ঢুকতে না পারার কারণে গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় পৌঁছেছে উল্লেখ করে কুদরা বলেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা।'

Join with us

পাঠান

Subscribe Now

Keep updated with the latest news!