ঈদ, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ বিরতি, সরকারি ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার
আসন্ন ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আবারও দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুল ও কলেজে টানা ১৬ দিন এবং মাদ্রাসায় ২১ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা, ৮ মে: দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন্ন ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে মোট ১২ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ ছুটি কার্যকর থাকবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তীব্র গরম এবং ঈদুল আজহার ছুটি একসঙ্গে বিবেচনায় এনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একই সময়ে মোট ১৫ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও সাপ্তাহিক ছুটি একসঙ্গে পড়ায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এবার দীর্ঘ ছুটি মিলছে। এতে স্কুল ও কলেজে টানা ১৬ দিন এবং মাদ্রাসায় ২১ দিনের ছুটি ভোগ করবেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তালিকা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে আগামী ২৪ মে (রোববার) থেকে। ছুটি চলবে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ছুটির আগে ও পরে থাকা শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক বন্ধ মিলিয়ে স্কুলগুলোতে মোট ১৬ দিনের টানা ছুটি পাওয়া যাবে।
কলেজ পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন অবকাশের আলাদা উল্লেখ না থাকলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১২ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ছুটির আগের ও পরের সাপ্তাহিক বন্ধ যোগ হওয়ায় কলেজেও টানা ১৬ দিনের ছুটি ভোগ করবেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
অন্যদিকে মাদ্রাসাগুলোতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে এবং শেষ হবে ১১ জুন। ছুটির আগে থাকা শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক বন্ধসহ মাদ্রাসায় মোট ২১ দিনের দীর্ঘ ছুটি মিলছে।
রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছে। অনেকেই পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা করছে। অভিভাবকরাও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘ পাঠদান ও পরীক্ষার চাপের পর এই বিরতি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি দেবে এবং তারা নতুন উদ্যমে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছুটি শেষে যথারীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ছুটির সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পড়াশোনার সঙ্গে সংযুক্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে টানা সাত দিনের ছুটি অনুমোদন করা হয়। এর ফলে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটিতে থাকবেন। তবে এর বদলে ২৩ ও ২৪ মে সরকারি অফিস খোলা রাখা হবে।
ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহায় সাধারণ ছুটি থাকবে। এছাড়া ঈদের আগে ২৬ ও ২৭ মে এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরে আরও একদিন যোগ করে ২৫ মে থেকেও ছুটি কার্যকর করায় মোট সরকারি ছুটি দাঁড়িয়েছে সাত দিন।
যেহেতু শনিবার সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিন, তাই ওই ছুটি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ২৩ মে সরকারি অফিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদযাপিত হয়। সে অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ২৭ মে ঈদুল আজহা পালিত হলে বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার)। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে ১৮ মে, অর্থাৎ ২৯ জিলকদ বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর।