By Shanjid Shane 🕒 জুন 17, 2026
৭ বছরের নন্দিনী হত্যাকাণ্ডে উত্তাল আদিতমারী, গ্রেপ্তার ঘিরে সংঘর্ষে আহত ২০
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রাম এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যার শোক ও ক্ষোভ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক বিধান চন্দ্র রায় এর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেক স্থানীয় পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশু নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয়স্বজন আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে আবারও খোঁজ শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে সদ্য খোঁড়া মাটির মতো দেখতে একটি স্থান নজরে আসে স্থানীয়দের। সন্দেহের ভিত্তিতে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করলে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগের সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাক্ষেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহের তীর যায় তার দিকে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বিধানের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপনে থাকা তাকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
কিন্তু সেখান থেকেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি ওঠে। একদল উত্তেজিত মানুষ পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার, ক্রাইমসিন ইউনিট, অতিরিক্ত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির সদস্যরাও একই পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসক, বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে যান। তবে উত্তেজিত জনতা তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পুরো গ্রাম কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এরপর অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিৎ কুমারকে নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে শেষ মুহূর্তেও প্রশাসনের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্ত বিধান চন্দ্র প্রতিবেশী শিশু নন্দিনীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে এবং মরদেহ মাটিচাপা দেয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে। হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং একাধিক সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, শিশু নন্দিনীর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জনমনে এখনও আতঙ্ক রয়েছে। অনেক পরিবার বিশেষ করে পুরুষ সদস্যদের নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত থাকায় এলাকাজুড়ে সতর্ক অবস্থা বজায় রয়েছে।
Stay Ahead of the News
Before Everyone Else
Major stories break every hour. Join our news community and receive instant alerts, viral headlines, and important updates the moment they happen.