By Shanjid Shane 🕒 46 মিনিট আগে
নারীর ময়নাতদন্তে নারীর হাত কেন নেই? ‘নারী ডোম’-এর দাবি কি শুধু কথাতেই?
একজন নারীর মৃত্যুর পরও কি তার শরীরের প্রতি সম্মান, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার অধিকার শেষ হয়ে যায়? মৃত্যুর আগে একজন নারী যেমন নিজের শরীরের ওপর অধিকার রাখেন, মৃত্যুর পরও তার দেহের প্রতি সম্মানজনক আচরণ একটি সভ্য ও মানবিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নারীর ময়নাতদন্তের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় এখনও বহু ক্ষেত্রে পুরুষ ডোম বা পুরুষ মরচুয়ারি কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যেখানে নারী ডোমের প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে, সেখানে বাস্তবে নারী ডোম তৈরির উদ্যোগ এত সীমিত কেন?
ময়নাতদন্ত কেবল মৃতদেহ কাটাছেঁড়া করার একটি চিকিৎসা-প্রক্রিয়া নয়। এটি মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ, অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, গর্ভপাত, আত্মহত্যা বা সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই জায়গায় নারীকর্মীর উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে মৃত নারীর মর্যাদা ও পরিবারের মানসিক স্বস্তি—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবু প্রশ্ন থেকে যায়: প্রয়োজনের কথা সবাই বললেও নারী ডোম কেন তৈরি হচ্ছে না?
ময়নাতদন্তে ডোমের ভূমিকা কী?
ময়নাতদন্ত সাধারণত চিকিৎসকের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়। ডোম বা মরচুয়ারি সহকারী চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সহযোগিতা করেন। মৃতদেহ গ্রহণ, স্থানান্তর, প্রস্তুত করা, ময়নাতদন্তের সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা করা এবং পরবর্তী সময়ে দেহ সেলাই ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের মতো কাজে তাদের ভূমিকা থাকে।
অর্থাৎ, ডোম নিজে ময়নাতদন্তের চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত নেন না। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণে নারী মৃতদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম বা প্রশিক্ষিত নারী মরচুয়ারি কর্মী থাকলে তা শুধু ‘নারী কর্মসংস্থান’-এর বিষয় নয়; বরং এটি মৃত নারীর গোপনীয়তা, মর্যাদা ও পরিবারের মানসিক নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত।
কেন নারীর ময়নাতদন্তে পুরুষের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে?
এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সমস্যাটি শুধু নারী ডোম নিয়োগ না করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ধারণা, পেশাগত কাঠামো এবং নিয়োগব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা।
১. ডোম পেশাকে দীর্ঘদিন পুরুষের পেশা হিসেবে দেখা হয়েছে
মৃতদেহ নিয়ে কাজ করার পেশাকে সমাজের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে পুরুষের কাজ হিসেবে বিবেচনা করেছে। ফলে নারীকে এই পেশায় আনার কথা খুব কমই ভাবা হয়েছে।
অন্যান্য অনেক পেশার মতো ডোমের ক্ষেত্রেও সামাজিক পূর্বধারণা তৈরি হয়েছে—‘এ কাজ নারীরা করবেন না’। কিন্তু এটি কোনো পেশাগত বাস্তবতা নয়; বরং সামাজিক ধারণা।
একজন নারী যথাযথ প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ পেলে এই কাজ করতে সক্ষম কি না—সেই প্রশ্নের উত্তর দক্ষতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত, লিঙ্গের ভিত্তিতে নয়।
২. নারী ডোম তৈরির জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণব্যবস্থা নেই
নারীকে এই পেশায় আনতে হলে শুধু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেই হবে না। প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণ।
মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার, মরচুয়ারি ব্যবস্থাপনা, ময়নাতদন্তে চিকিৎসককে সহযোগিতা, প্রমাণের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
যদি প্রশিক্ষণের কাঠামোই না থাকে, তাহলে নারী ডোম নিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন।
৩. কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
মরচুয়ারি বা ময়নাতদন্ত কক্ষ একটি বিশেষ ধরনের কর্মপরিবেশ। সেখানে নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পানি, স্যানিটেশন, PPE, জীবাণুনাশক ব্যবস্থা এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
নারীদের জন্য আলাদা পোশাক পরিবর্তনের জায়গা, বিশ্রামকক্ষ ও নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকলেও এই পেশায় নারী নিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।
অর্থাৎ নারী ডোম চাইলে শুধু নারী নিয়োগ নয়—নারীবান্ধব কর্মপরিবেশও তৈরি করতে হবে।
‘নারী ডোম প্রয়োজন’—কথাটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
নারী মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে একজন নারী কর্মী থাকলে কিছু বাস্তব সুবিধা তৈরি হতে পারে।
প্রথমত, মৃত নারীর দেহের ব্যক্তিগত অংশ নিয়ে কাজ করার সময় পরিবারের কাছে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যৌন সহিংসতা বা ধর্ষণের মতো মামলায় মৃতদেহের পরীক্ষা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এসব ঘটনায় মৃত নারীর মর্যাদা রক্ষায় নারী কর্মীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তৃতীয়ত, অনেক পরিবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে নারীর দেহ পুরুষের হাতে যাওয়াকে অস্বস্তিকর মনে করে। একজন নারী কর্মী থাকলে সেই অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—শুধু নারী ডোম থাকলেই ময়নাতদন্ত ‘সম্মানজনক’ হয়ে যাবে, এমন নয়। সম্মানজনক ময়নাতদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, দক্ষ সহায়ক কর্মী, প্রোটোকল, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং জবাবদিহি।
ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার প্রশ্ন
বাংলাদেশের সমাজে মৃতদেহকে ঘিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতি অত্যন্ত গভীর। বিশেষ করে নারীর মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা যায়।
অনেক পরিবার চায়, তাদের মৃত নারী আত্মীয়ের দেহ যতটা সম্ভব নারীকর্মী দ্বারা প্রস্তুত ও হস্তান্তর করা হোক। কিন্তু যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে নারী মরচুয়ারি কর্মী নেই, তখন পরিবারকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।
এখানে রাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার দায়িত্ব হলো মানুষের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিকে অযথা উপেক্ষা না করে, বৈজ্ঞানিক ও আইনসম্মত ময়নাতদন্তের পাশাপাশি মৃতদেহের মর্যাদা রক্ষার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করা।
নারী ডোম নিয়োগ কি শুধু নারীর অধিকার, নাকি একটি বিচারিক প্রয়োজন?
এটি দুটোই।
একদিকে এটি কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের প্রশ্ন। অন্যদিকে, ময়নাতদন্ত অনেক ফৌজদারি মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ তৈরি করে। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সঠিকভাবে মৃতদেহ পরীক্ষা করা এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি একজন নারী ডোম বা নারী মরচুয়ারি সহকারী প্রশিক্ষিতভাবে কাজ করেন, তাহলে তিনি চিকিৎসক ও তদন্তকারী দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারেন।
তবে নারী ডোম নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি ভুল ধারণা এড়িয়ে চলতে হবে: নারী ডোমকে শুধু নারী মৃতদেহের জন্য ব্যবহার করার বদলে তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ পেশাজীবী হিসেবে প্রশিক্ষিত করা উচিত।
সমস্যাটি কোথায়?
‘নারী ডোম দরকার’—এই দাবি যত সহজ, বাস্তবায়ন ততটা সহজ নয়। এখানে বেশ কয়েকটি কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।
সমস্যা ১: নির্দিষ্ট পদ ও নিয়োগ কাঠামোর অভাব
অনেক প্রতিষ্ঠানে ডোম বা মরচুয়ারি সহকারীর পদসংখ্যা, দায়িত্ব এবং নিয়োগ কাঠামো স্পষ্ট নয়। ফলে নারী ডোম নিয়োগের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করা কঠিন হয়।
সমস্যা ২: সামাজিক stigma
মৃতদেহ নিয়ে কাজ করা এখনও সামাজিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে বিবেচিত হয় না। ফলে অনেক পরিবার তাদের মেয়েকে এই পেশায় যেতে উৎসাহিত করে না।
এখানে শুধু চাকরি তৈরি করলেই হবে না; প্রয়োজন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
সমস্যা ৩: কম বেতন ও সীমিত ক্যারিয়ার সুযোগ
যে কোনো পেশায় মানুষ তখনই আগ্রহী হয় যখন সেখানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, যথাযথ বেতন, সামাজিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ উন্নতির সুযোগ থাকে।
ডোম পেশায় এসব বিষয় যথেষ্ট আকর্ষণীয় না হলে নারী-পুরুষ উভয়ের কাছেই পেশাটি অনাকর্ষণীয় হয়ে থাকবে।
সমস্যা ৪: মানসিক চাপ
প্রতিদিন মৃতদেহের সঙ্গে কাজ করা মানসিকভাবে কঠিন। দুর্ঘটনা, হত্যা, আত্মহত্যা কিংবা নির্যাতনের শিকার মানুষের দেহ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।
নারী ডোম নিয়োগের পরিকল্পনায় তাই মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
সমস্যা ৫: স্বাস্থ্যঝুঁকি
ময়নাতদন্তের সঙ্গে রক্ত, শারীরিক তরল, সংক্রমণ এবং রাসায়নিকের সংস্পর্শের সম্ভাবনা থাকে। ফলে PPE, টিকাদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
নারী ডোম নিয়োগ করা হলেও যদি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে সেটি হবে অসম্পূর্ণ উদ্যোগ।
সমাধান কী হতে পারে?
সমস্যাটির সমাধান শুধু ‘কয়েকজন নারী ডোম নিয়োগ’ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং একটি পূর্ণাঙ্গ নীতি তৈরি করা দরকার।
১. নারী ডোমের জন্য পৃথক নিয়োগ উদ্যোগ
সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরেনসিক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী নারী মরচুয়ারি সহকারী বা ডোম নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
২. প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ডোমদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কাঠামো থাকা উচিত।
প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকতে পারে:
- ময়নাতদন্তে চিকিৎসককে সহযোগিতা
- মৃতদেহের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা
- সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ
- PPE ব্যবহারের নিয়ম
- মরচুয়ারি পরিচ্ছন্নতা
- মরদেহ সেলাই ও প্রস্তুতির প্রাথমিক দক্ষতা
- প্রমাণ নষ্ট না করার নিয়ম
- মানবিক আচরণ ও গোপনীয়তা
- জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা
- মানসিক স্বাস্থ্য ও stress management
৩. নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ
ময়নাতদন্ত কেন্দ্রগুলোতে নারী কর্মীদের জন্য আলাদা changing room, washroom, নিরাপদ প্রবেশপথ এবং বিশ্রাম সুবিধা থাকা উচিত।
একই সঙ্গে সব কর্মীর জন্য পর্যাপ্ত PPE এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. পেশাটির সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো
‘ডোম’ শব্দটিকে সামাজিকভাবে অপমানজনক বা নিচু পেশার প্রতীক হিসেবে দেখার প্রবণতা বদলাতে হবে।
তারা বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক অংশ। একজন দক্ষ মরচুয়ারি কর্মী অনেক সময় একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সঠিকভাবে সংরক্ষণে ভূমিকা রাখেন।
৫. নারী ডোমদের জন্য ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ
শুধু নিম্নস্তরের সহায়ক কর্মী হিসেবে না দেখে অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে উচ্চতর দায়িত্বের সুযোগ তৈরি করা দরকার।
৬. পরিবারকে সম্মান দিয়ে প্রোটোকল তৈরি
মৃত নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, মৃতদেহ দেখার সুযোগ, দেহ হস্তান্তর এবং পোশাক পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে স্পষ্ট ও মানবিক প্রোটোকল থাকা প্রয়োজন।
এতে পরিবার বুঝতে পারবে যে ময়নাতদন্ত হলেও মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে।
শুধু নারী ডোম নয়, প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নারী ডোমের দাবি যেন প্রতীকী পর্যায়ে আটকে না যায়।
ধরা যাক, কোনো হাসপাতালে একজন নারী ডোম নিয়োগ করা হলো। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত ময়নাতদন্ত কক্ষ নেই, PPE নেই, প্রশিক্ষণ নেই, নারী কর্মীর নিরাপত্তা নেই, মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা দুর্বল এবং চিকিৎসক-সহকারী সমন্বয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।
তাহলে একজন নারী ডোম নিয়োগ করলেও মূল সমস্যার সমাধান হবে না।
সুতরাং প্রয়োজন Gender-sensitive forensic infrastructure—অর্থাৎ এমন ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত ব্যবস্থা, যেখানে নারী ও পুরুষ উভয় কর্মী নিরাপদে কাজ করতে পারবেন এবং মৃত নারী-পুরুষ সবার মর্যাদা নিশ্চিত হবে।
প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?
একজন নারী জীবিত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে গেলে আমরা নারী চিকিৎসক বা নারী স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজনীয়তা বুঝি। যৌন সহিংসতার শিকার হলে নারী পুলিশ, নারী আইনজীবী বা নারী কাউন্সেলরের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করি।
তাহলে মৃত্যুর পর তার দেহের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংবেদনশীলতা কেন থাকবে না?
একজন মৃত মানুষের আর কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তার হয়ে কথা বলার দায়িত্ব তখন পরিবার, রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর।
সেই দায়িত্বের একটি অংশ হলো—মৃতদেহের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করা।
নারী ডোম নিয়োগ সেই বৃহত্তর দায়িত্বের একটি অংশ মাত্র।
‘নারী ডোম প্রয়োজন’—এই দাবি আসলে শুধু নারীদের জন্য নতুন চাকরির দাবি নয়। এটি একটি মানবিক, পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি।
নারীর ময়নাতদন্তে পুরুষ কর্মীর উপস্থিতি সব পরিস্থিতিতে অনিবার্য বা ভুল—এমন সরল সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ ময়নাতদন্ত একটি বৈজ্ঞানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া এবং এতে প্রশিক্ষিত কর্মীদের প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে নারী মৃতদেহের ময়নাতদন্তে প্রশিক্ষিত নারী মরচুয়ারি কর্মীর উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে মৃতের মর্যাদা, পরিবারের মানসিক স্বস্তি এবং সংবেদনশীল মামলার পরিবেশকে আরও মানবিক করতে পারে।
তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত শুধু—‘নারী ডোম কোথায়?’
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—
কেন নারী ডোম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নিয়োগ, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট নয়?
একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু জীবিত নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা নয়; মৃত নাগরিকের দেহের মর্যাদাও রক্ষা করা।
আর সেই মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে নারী ডোমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শুধু কথা বললেই হবে না—তাদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও নিশ্চিত করতে হবে।
Stay Ahead of the News
Before Everyone Else
Major stories break every hour. Join our news community and receive instant alerts, viral headlines, and important updates the moment they happen.